- Back to Home »
- অনুবাদ , রূপান্তর , লর্ড ডানসানি »
- লর্ড ডানসানি এর দ্য হোর্ড অব দ্য গিবেলিনস (The Hoard of the Gibbelins) রূপান্তর মেহেদী হাসান
এডওয়ার্ড জন মোরটন ড্র্যাক্স প্লাঙ্কেট (যিনি সাহিত্যজগতে লর্ড ডানসানি নামে পরিচিত) ছিলেন একজন অ্যাংলো-আইরিশ লেখক, নাট্যকার এবং আধুনিক ফ্যান্টাসি সাহিত্যের পথিকৃৎদের একজন। আয়ারল্যান্ডের প্রাচীনতম অভিজাত বংশগুলোর একটিতে জন্মগ্রহণকারী ডানসানি ট্রিনিটি কলেজ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট লাভ করেন। "দ্য হোর্ড অব দ্য গিবেলিনস" লর্ড ডানসানির রচিত একটি ফ্যান্টাসি ছোটগল্প। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় লন্ডনের দ্য স্কেচ পত্রিকায় ১৯১১ সালে এবং পরবর্তীতে ১৯১২ সালে তাঁর বিখ্যাত সংকলন দ্য বুক অব ওয়ান্ডার-এ অন্তর্ভুক্ত হয়।
---------------------------------------------------------
দ্য হোর্ড অব দ্য গিবেলিনস
- লর্ড ডানসানি
গিবলিনরা যে মানুষ ছাড়া আর কিছুই খায় না এ কথা সবাই জানে। তাদের সেই অশুভ দুর্গটি আমাদের চিরচেনা পৃথিবীর সাথে শুধুমাত্র একটি সেতুর মাধ্যমে যুক্ত আছে। তাদের ধনসম্পদের কোনো হিসাব নেই; এত বেশি যে লোভের বশবর্তী হয়েও এই পরিমান সম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব নয়। পান্নার জন্য আলাদা গুদাম, নীলকান্তমণির জন্য আলাদা গুদাম; এমনকি তারা একটি গর্ত সোনা দিয়ে ভর্তি করে রেখেছে এবং যখন প্রয়োজন হয় তখন খুঁড়ে বের করে। আর তাদের এই বিশাল সম্পদের একটাই ব্যবহার, তা হলো—মানুষকে ফাঁদে ফেলা। দুর্ভিক্ষের সময় তো তারা আরও ভয়ংকর কাজ করত। তারা কোন একটি শহরে মানুষদের চলার পথে রুবি বা চুনি পাথর ছড়িয়ে দিত, ফলে মানুষেরা লোভের বশবর্তী হয়ে তাদের ফাঁদে পা দিত; আর বলাই বাহুল্য, শীঘ্রই গিবলিনদের খাবারের গুদাম পুনরায় ভরে উঠত।
হোমার যে নদীকে 'পৃথিবী বেষ্টনকারী মহাসমুদ্র' বলে অভিহিত করেছিলেন, সেই নদীর ওপারেই দাঁড়িয়ে আছে তাদের দুর্গ। যেখানে নদীটা সরু আর হেঁটে পার হওয়া যায় সেখানেই গিবলিনদের পেটুক পূর্বপুরুষরা এই দুর্গটি নির্মাণ করেছিল; কারণ তারা চাইত রত্ন চোরেরা সহজে নৌকা বেয়ে এসে তাদের সিঁড়ির গোঁড়ায় পৌঁছাক।
এই দুর্গেই গিবলিনরা বসবাস করত আর জঘন্যভাবে মানুষ খেয়ে বেঁচে থাকত। আলডেরিক, যিনি ছিলেন 'অর্ডার অফ দ্য সিটি অ্যান্ড দ্য অ্যাসল্ট' এর একজন নাইট—রূপকথার গল্পকারদের কাছে যিনি বেশ পরিচিত নাম। গিবলিনদের সেই গুপ্তধনের কথা এত দীর্ঘ সময় ধরে ভেবেছেন যে, এখন তিনি সেগুলো নিজের সম্পত্তি বলেই মনে করেন।
হায়! গভীর রাতে কোন এক সাহসী মানুষ যে ভয়ানক অভিযানে নেমেছিল, তার পেছনের একমাত্র কারণ ছিল নিছক লোভ—এ কথা ভাবতেই খারাপ লাগে! কিন্তু গিবলিনরা তাদের খাবারের গুদাম পূর্ণ রাখতে মানুষের এই লোভের ওপরই ভরসা করত। প্রতি একশো বছরে একবার তারা মানুষের শহরে গুপ্তচর পাঠাত এটা দেখতে যে মানুষের লোভের অবস্থা কেমন; আর প্রতিবারই গুপ্তচরেরা দুর্গে ফিরে এসে জানাত যে সব ঠিকঠাক আছে।
মনে হতে পারে যে, বছরের পর বছর ধরে ওই দুর্গের ভেতরে মানুষের এমন ভয়ানক পরিণতির কথা জানাজানি হওয়ার পর গিবলিনদের খাবার টেবিলে মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ার কথা; কিন্তু গিবলিনদের অভিজ্ঞতা ছিল ঠিক তার উল্টো।
যৌবনের উন্মাদনায় আলডেরিক সেই দুর্গে আসেননি। তিনি বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন, কীভাবে চোরেরা তাদের নিজের বলে দাবি করা সেই সম্পদের খোঁজে গিয়ে অকালমৃত্যুর মুখে পড়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা দরজা দিয়েই প্রবেশ করেছিল।
যারা এই অভিযানের বিষয়ে পরামর্শ দিত, তিনি তাদের সাথে শলাপরামর্শ করলেন; প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় টুকে নিলেন এবং হাসিমুখে তাদের পারিশ্রমিক মিটিয়ে দিলেন। কিন্তু মনে মনে ঠিক করলেন, তারা যা পরামর্শ দিয়েছে তার কোনোটাই তিনি করবেন না। কারণ তাদের মক্কেলদের বর্তমান অবস্থা কী? বরং তারাতো এখন গিবলিনদের সুস্বাদু খাবারে পরিনত হয়েছে।
এই অভিযানের জন্য ওই উপদেষ্টারা সাধারণত যেসব জিনিসের পরামর্শ দিত তা হলো: একটি ঘোড়া, একটি নৌকা, লোহার বর্ম আর অন্তত তিনজন সৈনিক সাথে নিতে। কেউ বলত, "দুর্গের দরজায় গিয়ে শিঙায় ফুঁ দিও"; আবার কেউ বলত, "খবরদার, ওটা স্পর্শ কোরো না।"
আলডেরিক তাই সিদ্ধান্ত নিলেন: তিনি নদীর পাড় পর্যন্ত কোনো ঘোড়া নিয়ে যাবেন না, নৌকায় করে নদী পাড়ি দেবেন না, এবং তিনি একাই যাবেন—যে পথে কেউ যায় না, অর্থাৎ সেই দুর্ভেদ্য জঙ্গলের পথ ধরে।
আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, যা দুর্ভেদ্য বা পার হওয়া অসম্ভব, তা তিনি পার হবেন কী করে? তার পরিকল্পনা ছিল এরকম: তিনি এমন এক ড্রাগনের কথা জানতেন যে শুধু অসংখ্য কুমারীকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করার জন্যই নয়, বরং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করার জন্যও সে কুখ্যাত ছিল; সে ওই পুরো অঞ্চলকে তছনছ করে দিয়েছিল। মূলত সে পুরো রাজ্যের জন্য ছিল অভিশাপ।
আলডেরিক এবার সেই ড্রাগনের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাই তিনি ঘোড়া আর বর্শা নিয়ে ছুটলেন যতক্ষণ না ড্রাগনটির মুখোমুখি হলেন, আর ড্রাগনটিও তিক্ত ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে তাকে আক্রমণ করতে বেরিয়ে এল।
তাকে দেখে আলডেরিক চিৎকার করে বললেন, "কোনো পিশাচ ড্রাগন কি কখনো কোনো সাচ্চা নাইটকে হত্যা করতে পেরেছে?" ড্রাগনটি ভালো করেই জানত যে এমনটা কখনো ঘটেনি, তাই সে মাথা নিচু করে চুপ করে রইল; কারণ ইতোপূর্বে রক্তপানে তার তৃষ্ণা মিটে গিয়েছিল।
তারপর নাইট বললেন, "শোনো, যদি তুমি আবার কখনও কোনো কুমারীর রক্তের স্বাদ পেতে চাও, তাহলে আজ থেকে তুমি হবে আমার বিশ্বস্ত বাহন—আমার ঘোড়া। আর যদি তা না চাও, তবে এই বর্শার শপথ করে বলছি, তোমার জাতির যে ভয়ংকর পরিণতির কথা গায়করা বলে বেড়ায়, সেই সবকিছুই তোমার ওপর নেমে আসবে।"
কথাটি শুনে সে রাগান্বিত হল না, কিংবা আগুনের শ্বাস ফেলতে ফেলতে নাইটকে আক্রমণ করতেও ধেয়ে এল না। কারণ যারা এসব দুঃসাহস দেখিয়েছে তাদের কী পরিণতি হয়েছে তা সে ভালো করেই জানত। তাই সে নাইটের দেওয়া সব শর্ত মেনে নিল এবং শপথ করে বলল যে আজ থেকে সে তার বিশ্বস্ত বাহন হবে।
এই ড্রাগনের পিঠে জিন চড়িয়েই আলডেরিক পরে সেই দুর্ভেদ্য জঙ্গলের ওপর দিয়ে উড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে তিনি তার সেই সূক্ষ্ম পরিকল্পনাটি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করলেন। তিনি এক কামারকে হুকুম দিলেন, আর সেই কামার তার জন্য একটি লোহার কোদাল বানিয়ে দিল।
আলডেরিকের এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। কারণ সবাই জানত তিনি একজন অত্যন্ত সতর্ক মানুষ, তাই তাদের বিশ্বাস ছিল তিনি সফল হবেন এবং পৃথিবীকে ধনসম্পদে ভরিয়ে দেবেন। এই মহৎ দানের কথা ভেবে শহরের লোকেরা খুশিতে হাত ঘষতে লাগল। তার দেশে শুধু সুদখোররা বাদে প্রায় সবাই খুশি ছিল। তারা ভয় পাচ্ছিল কারণ আলডেরিক ফিরে এলে হয়তো তাদের পাওনা টাকা শোধ হয়ে যাবে। আরও একটা কারণে সবাই খুশি ছিল—যদি গিবলিনদের ধন লুট হয় তবে তারা হয়তো তাদের উঁচু সেতু ভেঙে ফেলবে আর নিজেদের দুর্গসহ যেখান থেকে তারা এসেছিল সেখানে অর্থাৎ চাঁদে ফিরে যাবে। গিবলিনদের প্রতি মানুষের ভালোবাসার লেশমাত্র ছিল না, যদিও সবাই তাদের গুপ্তধনের প্রতি ঈর্ষান্বিত ছিল।
তাই যেদিন তিনি ড্রাগনের পিঠে চড়লেন, সেদিন সবাই এমনভাবে উল্লাস করতে লাগল যেন তিনি ইতিমধ্যেই বিজয়ী হয়ে ফিরেছেন। আর লোকদের সবচেয়ে বেশি আনন্দ হয়েছিল এই দেখে যে, তিনি যাত্রাপথে সোনা ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, গিবলিনদের গুপ্তধন পেলে এসবের আর দরকার হবে না; আর যদি তিনি গিবলিনদের খাবারে পরিণত হন, তবে তো এগুলোর চিন্তা করা একদমই বৃথা।
যখন লোকেরা শুনল যে তিনি উপদেষ্টাদের কথা শোনেননি, তখন কেউ বলল নাইট পাগল হয়ে গেছেন; আবার কেউ বলল তিনি পরামর্শদাতাদের চেয়েও বড় মাপের মানুষ। কিন্তু কেউই তার পরিকল্পনার আসল মাহাত্ম্য বুঝতে পারল না।
তার যুক্তি ছিল এই রকম: শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে সবচেয়ে চতুর পথে সেখানে গেছে। এদিকে গিবলিনরাও অভ্যাস করে ফেলেছে যে মানুষ নৌকা করেই আসবে, আর যখন তাদের খাবারের গুদাম খালি হবে তখন তারা দরজার দিকেই তাকিয়ে থাকবে—যেমন করে কোন শিকারি জলাভূমিতে কাদা-খোঁচা পাখির খোঁজ করে।
কিন্তু আলডেরিক বললেন, "যদি পাখিটি কোনো গাছের মগডালে বসে থাকে, তবে কি মানুষ তাকে খুঁজে পাবে? কখনোই না!" তাই আলডেরিক সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি নদী সাঁতরে পার হবেন এবং দরজা দিয়ে ঢুকবেন না, বরং কোদাল দিয়ে দেয়ালের পাথর খুঁড়ে দুর্গের ভেতরে ঢুকবেন। তাছাড়া তার পরিকল্পনা ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে কাজ করা। তার উদ্দেশ্য ছিল, দেয়ালে ফুটো করলেই যেন পানি হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে পড়ে গিবলিনদের ভড়কে দেয় এবং তাদের বিশ ফুট গভীর ভূগর্ভস্থ গুদামগুলো বন্যায় ভাসিয়ে দেয়; আর তখন তিনি মুক্তার সন্ধান করা ডুবুরির মতো পান্না কুড়িয়ে নেবেন।
সেদিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার ঘোড়া (বা বলা ভালো ড্রাগন) ছুটিয়ে বাড়ি থেকে দুহাতে সোনা ছড়াতে ছড়াতে বেরিয়ে পড়লেন। তিনি অনেক রাজ্য পার হলেন; পথে ড্রাগনটা কুমারী মেয়েদের দেখে কামড়াতে যাচ্ছিল, কিন্তু মুখের লাগামের কারণে খেতে পারছিল না। এর বদলে তাকে খেতে হচ্ছিল নাইটের বর্শার খোঁচা। এভাবে তারা সেই দুর্ভেদ্য জঙ্গলের কালো, গগনচুম্বী দেয়ালের মতো গাছের সারির কাছে এসে পৌঁছাল। ডানার ঝাপটানি দিয়ে ড্রাগনটি উঁচুতে উঠে গেল। পৃথিবীর প্রান্তে বসবাসকারী অনেক কৃষক গোধূলির আলোয় ওপরে তাকাতেই এক আবছা, কালো, আঁকাবাঁকা রেখা দেখতে পেল। তারা ওটাকে সমুদ্র থেকে উড়ে আসা বুনো হাঁসের সারি ভেবে ভুল করল এবং শীত আসছে, শীঘ্রই বরফ পড়বে—এই ভেবে হাত ঘষতে ঘষতে হাসিমুখে ঘরে ঢুকে গেল।
কিছুক্ষণ পর গোধূলি মিলিয়ে গেল আর তারা যখন পৃথিবীর কিনারায় নামল তখন রাত হয়ে গেছে এবং আকাশে চাঁদ জ্বলজ্বল করছে। সেই প্রাচীন মহাসাগর নিঃশব্দে বয়ে যাচ্ছিল। গিবলিনরা ভোজসভায় মত্ত ছিল নাকি দরজায় পাহারা দিচ্ছিল—তা বোঝার উপায় ছিল না, কারণ তারাও কোনো শব্দ করছিল না। আলডেরিক ড্রাগন থেকে নামলেন এবং তার বর্ম খুলে ফেললেন। তারপর নিজের প্রিয়তমার উদ্দেশ্যে একবার প্রার্থনা করে কোদাল হাতে সাঁতরে নদী পার হলেন। তলোয়ারটি হাতছাড়া করলেন না, পাছে কোনো গিবলিনের সাথে দেখা হয়ে যায়।
ওপারে পৌঁছে তিনি সাথে সাথেই কাজ শুরু করলেন এবং সবকিছু ঠিকঠাক মতোই এগোতে লাগল। কোনো জানালা দিয়ে কেউ উঁকি দিল না; সবগুলো জানালাই আলোকিত ছিল, ফলে ভেতরের আলোয় থাকা কেউ বাইরের অন্ধকারে তাকে দেখতে পাচ্ছিল না। কোদালের আঘাতের শব্দ মোটা দেয়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছিল। সারা রাত তিনি কাজ করলেন, কোনো শব্দ তাকে বিরক্ত করল না। ভোরের আলো ফুটতেই শেষ পাথরটি নড়ে উঠে ভেতরের দিকে পড়ে গেল, আর তার পেছন পেছন নদীর পানি হুড়মুড় করে ঢুকতে লাগল। তখন আলডেরিক একটা পাথর নিলেন এবং নিচের ধাপের দিকে গিয়ে সেটা সজোরে দরজার দিকে ছুড়ে মারলেন। তিনি শুনলেন পাথরের প্রতিধ্বনি দুর্গের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ছে; এরপর তিনি দৌড়ে ফিরে এসে দেয়ালের সেই গর্ত দিয়ে ভেতরে ডুব দিলেন।
তিনি পান্নার গুদামে এসে পরলেন। তার মাথার ওপরের উঁচু ছাদের নিচে কোনো আলো ছিল না, কিন্তু বিশ ফুট পানির নিচে ডুব দিয়ে তিনি অনুভব করলেন মেঝেটা পান্নায় ভর্তি হয়ে আছে, আর সেখানে খোলা সিন্দুকগুলোও রত্নে ঠাসা। চাঁদের আবছা আলোয় তিনি দেখলেন পান্নার আভায় পানি সবুজ হয়ে আছে। সহজেই তিনি একটি থলি ভর্তি করে আবার পানির ওপরে ভেসে উঠলেন; আর ঠিক তখনই দেখলেন গিবলিনরা হাতে মশাল নিয়ে কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে আছে! তারা কোনো কথা বলল না, এমনকি হাসলও না। তারা খুব নিপুণভাবে তাকে বাইরের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিল—আর বলাই বাহুল্য, এই গল্পের শেষটা খুব একটা সুখকর ছিল না।

